সংখ্যা - ১৪৯২ তারিখ - ২৪.০৯.২৬ বর্ষ - ৩০
সংখ্যা - ১৪৯২ তারিখ - ২৪.০৯.২৬ বর্ষ - ৩০
সম্পাদকীয়
একটি ইংরেজি দৈনিক কাগজে সপ্তাহে নিয়মিত একটা পাতা জুড়ে কলকাতার স্কুল পড়ুয়াদের থিয়েটার ডান্সের ছবি সহ খবর সেভাবে ছাপা হয়ে চলেছে। তাতে একটা কথা স্পষ্ট যে ইংরেজি-মাধ্যম স্কুল কর্তৃপক্ষ থিয়েটার যে ছোটদের শিক্ষার একটা অঙ্গ এইটা বক্তৃতায় শুধু নয়, প্রয়োগেও বিশ্বাস করেন।
একেবারে উল্টো চিত্র বাংলা মাধ্যমের স্কুল কর্তৃপক্ষের মনোভাবে। সেখানে নিয়মিত তো দুর-বার্ষিক অনুষ্ঠানে একবার 'অবাক-জলপান', 'রোগীর-চিকিৎসা' জাতীয় নাটক করার যে একটা রীতি ছিলো কিছু বছর আগেও, এখনকার স্কুল-কতৃপক্ষ সেটাও প্রায় বাতিল করেছেন, পড়াশুনোর ক্ষতি-আশঙ্কায়।
কোনো কোনো নাট্যদল তাদের নিজেদের তাগিদে যখন স্কুলে স্কুলে দরজা নাড়েন- 'ছোটদের নিয়ে নাটকের কাজ করবার' জন্যে। তাদের অভিজ্ঞতা তিক্ত। ব্যতিক্রম আছে, থাকতে পারে। কিন্তু সেটাতো ব্যতিক্রমই।
মূলকথা বাংলা-মাধ্যম স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং সেখানে অভিভাবক কুল কেন যে নাটক ব্যাপারে বিরূপ, আমরা বুঝিনা, এ ক্ষেত্রে মধ্য ও উচ্চ শিক্ষা পর্ষদ থেকে রাজ্য সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকও সম্ভবত এক সুরে বাঁধা। 'নাটক ফাটক পড়াশুনোর ক্ষতি করে'।
আমাদের মনে হয়, এ ব্যাপারে যাঁরা বিশেষজ্ঞ সেই শিশু-মনস্তাত্বিক, শিশু-নাট্যের-বিশিষ্টজনেরা মিলে যদি কথায়, লেখায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে জানান যে, ক্ষতিতো নয়ই, থিয়েটার শিশু-কিশোরদের শিক্ষার মনোযোগী শুধু নয়, তাদের বুদ্ধি-মন-শরীর বিকাশে কী ভীষণ প্রয়োজন, তাহলে হয়ত বাংলার বাংলাভাষা নির্ভর নবপ্রজন্মের সামনে নতুন আলো ফুটতে পারে।
কে যেন বলেছিলেন, এই বড় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ওরা দেশের ভবিষ্যত চালকদের তৈরি করে। আর বাংলা মাধ্যম-স্কুল চালানো হয় যারা ভবিষ্যতে চালিত হবে তাদের জন
আমাদের প্রশ্ন অভিভাবক ও সাধারণ ভোটদাতা, করদাতা বাঙালি এই বিভাজন চান কি?
-শিব মুখোপাধ্যায়