সংখ্যা - ১৪৯২ তারিখ - ২৪.০৯.২৬ বর্ষ - ৩০
সংখ্যা - ১৪৯২ তারিখ - ২৪.০৯.২৬ বর্ষ - ৩০
ব্রিকস থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল
নয়াদিল্লিতে সদ্য শেষ হয়েছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীতে আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবের ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। আগামী ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘ব্রিকস থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নাট্যশিল্পী এবং বিভিন্ন প্রযোজনা এই উৎসবে অংশ নেবে। আজ ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার প্রাঙ্গণে আসন্ন উৎসব নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বসেছিল অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল ক্ষেত্রকে সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকস থিয়েটার ফেস্টিভ্যালকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং সদস্য দেশগুলির মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য ১১টি দেশ—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ইরান। ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে এই জোটের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছর ইতিমধ্যেই ব্রিকসের সাংস্কৃতিক পরিসরে একাধিক কর্মসূচি হয়েছে। ৬ ও ৭ অগস্ট ভোপালে আয়োজিত হয়েছিল ব্রিকস সাংস্কৃতিক উৎসব। তার আগে এপ্রিল, জুন ও অগস্টে ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মগোষ্ঠীর বৈঠক হয়েছে। ৭ ও ৮ অগস্ট ভোপালেই অনুষ্ঠিত হয় ব্রিকস সংস্কৃতি মন্ত্রীদের বৈঠক। সেই বৈঠকে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি শিল্পীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং পেশাগত সুযোগ বাড়ানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবী শিল্পী-তালিকা তৈরির উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল।
সেই ধারাবাহিকতার পরেই দিল্লিতে নাট্য উৎসব। ফলে এবারের ব্রিকস থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল শুধু কয়েকটি দেশের নাট্যপ্রদর্শন নয়, ব্রিকসের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বৃহত্তর কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নাট্যচর্চার বিভিন্ন ধারা, মঞ্চভাবনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে একই পরিসরে নিয়ে আসাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উৎসবের বিস্তারিত নাট্যসূচি এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির নির্দিষ্ট প্রযোজনার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে সদ্য সমাপ্ত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের পরপরই এই উৎসবের প্রস্তুতি সামনে আসায় দিল্লির সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে অক্টোবরের আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।