সংখ্যা - ১৪৯২ তারিখ - ২৪.০৯.২৬ বর্ষ - ৩০
সংখ্যা - ১৪৯২ তারিখ - ২৪.০৯.২৬ বর্ষ - ৩০
আলোমুখের মহানায়ক স্মরণ
গত ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীতে উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে হাওড়া রামগোপাল মঞ্চে আলোমুখ হাওড়া পরিবেশন করলো তাদের নতুন নাটক "হার মানা হার"-এর প্রথম অভিনয়। নাটকের বিষয় ও আঙ্গিক অন্য রকমের। উত্তম কুমার সুচিত্রা সেনকে কেন্দ্র করেই নাটক। দুই চরিত্র সরাসরি নাটকে না থাকলেও তাঁরাই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র। নাটকে রয়েছে স্বর্গের এক ভিন্ন রকমের উপস্থাপনা। নাটক লিখেছেন ও নির্মাণ করেছেন মনসিজ বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই নাটকে স্বর্গকে একটা কর্পোরেট অর্গানাইজেশন দেখানো হয়েছে। বর্তমানে সার বিশ্বই তো কর্পোরেটদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই এইভাবে দেখানো হয়েছে। এবার মর্ত্য থেকে একটা দাবী গেছে, 'আমাদের সব গেছে, আমাদের পুরোনো নস্টালজিয়া ফিরিয়ে দেওয়া হোক।' নাটককার মনে করেছেন যে উত্তম সুচিত্রার থেকে বড় নস্টালজিয়া তো কিছু নেই। তাই স্বর্গ থেকে উত্তম সুচিত্রার দুই ভক্ত - অরুণোদয় সেন ও সাগরিকা চ্যাটার্জি তাদেরকে মর্ত্যে পাঠানো হয়। তাদের দেখতে কোনও মতেই উত্তম সুচিত্রার মতো নয়, কিন্তু তারা যেহেতু ভক্ত তাই তাদের চালচলন, কথা বলার ধরন সবেতেই কিছু কিছু সাদৃশ্য আছে। তারা এবার কিছু কিছু গানে বা সিনেমার কোনও দৃশ্য পারফর্ম করে সাধারণের কাছে নস্টালজিয়াটা ফিরিয়ে দিচ্ছে। এইভাবেই গল্পটা আবর্তিত হতে থাকে।"
নাটকের আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন বাবলু সরকার। মঞ্চ ভাবনা ভবেশ পাত্রের এবং আবহ করেছেন গৌরব মুখার্জী ও রূপসজ্জায় ছিলেন ভানু মিত্র। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনসিজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা রায় চৌধুরী, কৌশিক খাঁ, অমিত সামন্ত, সৌম্যদীপ পাল, সুবিকাশ পাল, কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায়, জয় হালদার, পুলমা চক্রবর্তী ও অঞ্জলি। নাটকটির আবহে সহযোগিতা করেন অভিক দে এবং গ্রন্থিক মুখার্জী। প্রজেক্টর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সাহেব ভৌমিক। একটি গানে কন্ঠ দেন ঊর্ণিশা। নেপথ্য সহযোগিতায় ছিলেন শুদ্ধসত্ত্ব ভট্টাচার্য।
নাটকটির শুরুতেই হলের কিছু বৈদ্যুতিক সমস্যা হওয়ায় বেশ বিলম্বে শুরু হয়। নাটকটি পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির আর্থিক সহায়তায় নির্মিত তাই প্রবেশ ছিল অবাধ।